দারিদ্র
পীড়িত পরিবারে জন্ম আমার। বাবা পেশায় একজন দর্জি । দিন আনে দিন খায় এমন
অবস্থা। নিদারুন অর্থকষ্টে থাকায় আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছিলাম
না। বছরে নতুন দুটি কাপড়, দুটি ঈদে শুধুমাত্র মাংস খাওয়া আর সারা বছর
নিরামিষে চলছিল আমার জীবন। কষ্ট করে নাইন পাশ করলাম। নাইনে রেজিস্ট্রে শন
করার জন্য অনেকগুলো টাকার দরকার ছিল আমার। আম্মু তার সোনার চুড়িবিক্রয়
করলেন। তা দিয়ে আমারবই আর রেজিস্ট্রে শন করালেন। অল্প কিছু টাকা বাচার
কারনে সব বই পুরাতন লাইব্রেরী থেকে কিনতে হল। ইংরেজি ২য় পত্র বই সেবার নতুন
হওয়া কিনতে পেরেছিলাম না। রেজিস্ট্রে শন করার দিন বাড়িতে এসে দেখি রান্না
হয়নি। হবে কি করে? সবগুলো টাকা তো বই আর রেজিস্ট্রে শনে খরচ হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন দেখি শুধু আমার জন্য খাবার ছিল। আব্বু, আম্মু না খেয়ে আমার আর আমার
ছোট বোনের জন্য চিড়া ভিজিয়ে রেখেছিল। বুঝতে পারিনি তখন!
এভাবে আমার দিন চলছিল। আমার মনে স্বপ্ন ছিল একদিন অনেক অনেক বড় হব। বাবা মার মুখে হাসি ফোটাবো। তাদের কখনও কষ্ট করতে দিব না। এভাবে কষ্ট করে আমার বাবা, মা আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে লাগলেন। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারি না। নিজেই বাড়িতে পড়ি। আমি ক্লাস টেনে উঠে টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। টেস্ট পরীক্ষা দেবার পর শুনলাম এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করতে অনেকগুলো টাকা লাগবে। তাই আমি আমার বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করতে লাগলাম। ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়া, আগাছা পরিস্কার করা।আমার বেতন ছিল 25 টাকা। সারাদিন কাজ করে শরীর ব্যাথা হয়ে যেত। দু-হাতে ফোস্কা পড়ে যেত। কিন্তু পরীক্ষার টাকা জোগার করার আমার কোন উপায় ছিল না। সারাদিন কাজ করে বাড়িতে এসেপড়াশোনা করতাম। সাইন্সে পড়তাম, তাই পড়াশোনা একটু বেশিই করা লাগতো।
এভাবে পরীক্ষার টাকা জোগাড় করলাম। পরীক্ষার দিনে সবাই নতুন জামাকাপড় পরে পরীক্ষা দিতে যায় আর আমি গেলাম আমার সেই পুরাতন জামা-কাপড় পরেই। পরীক্ষার দিন যাওয়ার পথে আমার সেন্ডেল ছিড়ে যাওয়াতে আমি খালি পায়ে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। প্রাইভেট না পড়াতে আমার পরীক্ষার ফল হল 3.0। কিন্তু এই পয়েন্টটা আমার সম্পুর্ণ নিজের চেষ্টায়। কাজ করার কারনে ক্লাস করতে পারিনি, প্রাইভেট পড়তে পারিনি। এই পয়েন্ট আমার কাছে জিপিএ 5। কলেজে ভতি হলাম। নতুন কলেজে গেলে সবাই যায় নতুন জামা-কাপড় পড়ে আর আমি গেলাম কেজির কাপড়ে বানানো জামা পরে। (তখন কেজিতে খুব কম দামে কাপড় পাওয়া যেত।) সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো।
ইলেকট্রনিকসের উপর আমার খুব আগ্রহ ছিল। অংকে আমি খুব ভাল ছিলাম। ক্যালকুলেট র, টিভির রিমোট নিয়ে খুব আগ্রহ ছিল। নতুন কেউ টিভি কিনলে আমাকে ডেকে নিয়ে যেত চ্যানেলগুলো ঠিক করে এনে দিতে। তখন নতুন বাজারে কম্পিউটার এসেছে। আমি স্কুল ছুটির পর দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতাম। আমার ও ইচ্ছে ছিল কম্পিউটার শেখার। কিন্তু কম্পিউটার শেখার মত টাকা আমার ছিল না।তাই আমি সে ইচ্ছে বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার আম্মু, যিনি শত অভাবের মধ্যেও আমাদের সংসারটা টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি তার বিয়ের কানের দুল বিক্রি করে আমাকে কম্পিউটার শেখার জন্য টাকা দিলেন।
এর মধ্যে আমি সেই কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার শিখতে থাকলাম। পরের মাসের বেতন না দিতে পারায় আমি সেখানে 100 টাকা বেতনে একটা চাকরি নিয়ে নিলাম। আসলে আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেতন মওকুফ আর সারাক্ষণ কম্পিউটারের সংস্পশে থাকা। আমি শিখতে থাকলাম, জানতে থাকলাম। 2009 সালের দিকে আমি জানতে পারলাম ইন্টারনেটে আয় করা যায়। আমি তখনও এই ব্যাপারে ভাল করে কোথাও জানতে পারলামনা। আমি শখের বশে বিভিন্ন জিনিস সম্পকে জানতে লাগলাম। আমার ভাল লাগত ওয়েব ডিজাইন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবসরে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে লাগলাম। এর মধ্যে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা ই-সেন্টারে উদ্দোক্তা নিয়োগ হবে। আমি আবেদন করলাম এবং সেখানে চাকরি পেলাম। সেখানে এসে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম স্যারের সহযোগিতা এবং পরামশে অনলাইনে আয় সম্পকে আগ্রহী হলাম।
এরই মধ্যে আমি খুলনাতে ট্রেনিং এ গেলাম। সেখানে গিয়ে আমি সর্বপ্রথম ওডেস্ক ডট কম এ একটা একাউন্ট খুলি এবং একটি সহজ কাজ পেয়ে যাই।আমি করে ফেলি এবং সেই ক্লায়েন্টে র ভাল ফিডব্যাক পাই যা আমার প্রোফাইলে যুক্ত হয়ে যায়। এর পর থেকে আমি আরও কাজ শিখতে থাকি এবং কাজ করতে থাকি। আমার প্রথম মাসের আয় দাড়ায় প্রায় 15 হাজার টাকা। যা আমার জন্য অনেক বড় আয়।
আমি ইংরেজি শিখতে থাকি, ওযেব ডিজাইন, ওয়েব প্রোগ্রামিং শিখতে থাকি। আমার আয় আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। সর্বশেষ আমার অক্টোবর 2012 মাসের আয় প্রায় দুই লক্ষ টাকার ও অধিক।
আস্তে আস্তে আমার ই-মেইল ক্লায়েন্টে র সংখ্যা বাড়তে থাকে। আমি প্রচুর কাজ পেতে থাকি। প্রথম দিকে ওডেস্ক এ কাজ করলেও বর্তমানে প্রাইভেট কোম্পানীতে বেশী কাজ করা হয়। বর্তমানে আমি কানাডাতে MRSFT (Machine Research & Softwere Foundry Limited) কোম্পানীতে চাকুরী করছি। আমার ফিক্সড স্যালারি 1,50,000/ = টাকার মত। সেখানে আমাকে প্রতিদিন আট ঘন্টা করে কাজ করতে হয়। এছাড়া আমি আমেরিকার PPM (Perfect Point Marketing) কোম্পানীতে কাজ করি পার্ট টাইম। অস্ট্রোলিয় াতে আমার একটি পার্টনারশী প মাকেটিং কোম্পানী আছে। তার নাম হল YourMarket ingSales (YourMarke tingSales. com.au)।তাছাড়া বিভিন্ন ছোটখাট কাজ তো করতেই হয়।
আমি আমার অস্ট্রোলিয় ান পার্টনারের কাছ থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অফার পেয়েছি। কিন্তু আমি সেখানে যেতে চাই না। আমি আমার দেশকে অনেক অনেক ভালবাসি। এদেশের আবহাওয়া, সুযোগ-সুবি ধায় বড় হয়ে আমি বাইরে চলে গিয়ে নিজেকে বেঈমান প্রমাণিত করতে চাই না। আমি আমার দেশকে অনেক উচুতে নিয়ে যাবো। আমি রাসেলআহমেদ, আমিই বাংলাদেশ।
অনেক কাজ হওয়ার কারনে আমি, আমার অন্যান্য পার্টনার মিলে তৈরি করেছি DesinigngW ay নামে একটি কোম্পানী। আমরা প্রায় 78-80 জন এখানে কর্মরত। এখানে ফিলিপাইন, কানাডা, আমেরিকাসহি বিভিন্ন দেশের ওয়ার্কাররা কাজ করে। আমাদের এই কোম্পানীর গত মাসের ইনকাম প্রায় 50 লক্ষ টাকা। আমাদেরপরবর্তী ছয় মাসের টাগেট প্রতি মাসে 1 কোটি টাকা আয় করা।
পোষ্টটি পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে এখানে
এভাবে আমার দিন চলছিল। আমার মনে স্বপ্ন ছিল একদিন অনেক অনেক বড় হব। বাবা মার মুখে হাসি ফোটাবো। তাদের কখনও কষ্ট করতে দিব না। এভাবে কষ্ট করে আমার বাবা, মা আমার পড়াশোনার খরচ চালাতে লাগলেন। টাকার অভাবে প্রাইভেট পড়তে পারি না। নিজেই বাড়িতে পড়ি। আমি ক্লাস টেনে উঠে টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। টেস্ট পরীক্ষা দেবার পর শুনলাম এসএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করতে অনেকগুলো টাকা লাগবে। তাই আমি আমার বাড়ির পাশের মাঠে কাজ করতে লাগলাম। ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়া, আগাছা পরিস্কার করা।আমার বেতন ছিল 25 টাকা। সারাদিন কাজ করে শরীর ব্যাথা হয়ে যেত। দু-হাতে ফোস্কা পড়ে যেত। কিন্তু পরীক্ষার টাকা জোগার করার আমার কোন উপায় ছিল না। সারাদিন কাজ করে বাড়িতে এসেপড়াশোনা করতাম। সাইন্সে পড়তাম, তাই পড়াশোনা একটু বেশিই করা লাগতো।
এভাবে পরীক্ষার টাকা জোগাড় করলাম। পরীক্ষার দিনে সবাই নতুন জামাকাপড় পরে পরীক্ষা দিতে যায় আর আমি গেলাম আমার সেই পুরাতন জামা-কাপড় পরেই। পরীক্ষার দিন যাওয়ার পথে আমার সেন্ডেল ছিড়ে যাওয়াতে আমি খালি পায়ে পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। প্রাইভেট না পড়াতে আমার পরীক্ষার ফল হল 3.0। কিন্তু এই পয়েন্টটা আমার সম্পুর্ণ নিজের চেষ্টায়। কাজ করার কারনে ক্লাস করতে পারিনি, প্রাইভেট পড়তে পারিনি। এই পয়েন্ট আমার কাছে জিপিএ 5। কলেজে ভতি হলাম। নতুন কলেজে গেলে সবাই যায় নতুন জামা-কাপড় পড়ে আর আমি গেলাম কেজির কাপড়ে বানানো জামা পরে। (তখন কেজিতে খুব কম দামে কাপড় পাওয়া যেত।) সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলো।
ইলেকট্রনিকসের উপর আমার খুব আগ্রহ ছিল। অংকে আমি খুব ভাল ছিলাম। ক্যালকুলেট র, টিভির রিমোট নিয়ে খুব আগ্রহ ছিল। নতুন কেউ টিভি কিনলে আমাকে ডেকে নিয়ে যেত চ্যানেলগুলো ঠিক করে এনে দিতে। তখন নতুন বাজারে কম্পিউটার এসেছে। আমি স্কুল ছুটির পর দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতাম। আমার ও ইচ্ছে ছিল কম্পিউটার শেখার। কিন্তু কম্পিউটার শেখার মত টাকা আমার ছিল না।তাই আমি সে ইচ্ছে বাদ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার আম্মু, যিনি শত অভাবের মধ্যেও আমাদের সংসারটা টিকিয়ে রেখেছিলেন তিনি তার বিয়ের কানের দুল বিক্রি করে আমাকে কম্পিউটার শেখার জন্য টাকা দিলেন।
এর মধ্যে আমি সেই কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার শিখতে থাকলাম। পরের মাসের বেতন না দিতে পারায় আমি সেখানে 100 টাকা বেতনে একটা চাকরি নিয়ে নিলাম। আসলে আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেতন মওকুফ আর সারাক্ষণ কম্পিউটারের সংস্পশে থাকা। আমি শিখতে থাকলাম, জানতে থাকলাম। 2009 সালের দিকে আমি জানতে পারলাম ইন্টারনেটে আয় করা যায়। আমি তখনও এই ব্যাপারে ভাল করে কোথাও জানতে পারলামনা। আমি শখের বশে বিভিন্ন জিনিস সম্পকে জানতে লাগলাম। আমার ভাল লাগত ওয়েব ডিজাইন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবসরে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে লাগলাম। এর মধ্যে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা ই-সেন্টারে উদ্দোক্তা নিয়োগ হবে। আমি আবেদন করলাম এবং সেখানে চাকরি পেলাম। সেখানে এসে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম স্যারের সহযোগিতা এবং পরামশে অনলাইনে আয় সম্পকে আগ্রহী হলাম।
এরই মধ্যে আমি খুলনাতে ট্রেনিং এ গেলাম। সেখানে গিয়ে আমি সর্বপ্রথম ওডেস্ক ডট কম এ একটা একাউন্ট খুলি এবং একটি সহজ কাজ পেয়ে যাই।আমি করে ফেলি এবং সেই ক্লায়েন্টে র ভাল ফিডব্যাক পাই যা আমার প্রোফাইলে যুক্ত হয়ে যায়। এর পর থেকে আমি আরও কাজ শিখতে থাকি এবং কাজ করতে থাকি। আমার প্রথম মাসের আয় দাড়ায় প্রায় 15 হাজার টাকা। যা আমার জন্য অনেক বড় আয়।
আমি ইংরেজি শিখতে থাকি, ওযেব ডিজাইন, ওয়েব প্রোগ্রামিং শিখতে থাকি। আমার আয় আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। সর্বশেষ আমার অক্টোবর 2012 মাসের আয় প্রায় দুই লক্ষ টাকার ও অধিক।
আস্তে আস্তে আমার ই-মেইল ক্লায়েন্টে র সংখ্যা বাড়তে থাকে। আমি প্রচুর কাজ পেতে থাকি। প্রথম দিকে ওডেস্ক এ কাজ করলেও বর্তমানে প্রাইভেট কোম্পানীতে বেশী কাজ করা হয়। বর্তমানে আমি কানাডাতে MRSFT (Machine Research & Softwere Foundry Limited) কোম্পানীতে চাকুরী করছি। আমার ফিক্সড স্যালারি 1,50,000/ = টাকার মত। সেখানে আমাকে প্রতিদিন আট ঘন্টা করে কাজ করতে হয়। এছাড়া আমি আমেরিকার PPM (Perfect Point Marketing) কোম্পানীতে কাজ করি পার্ট টাইম। অস্ট্রোলিয় াতে আমার একটি পার্টনারশী প মাকেটিং কোম্পানী আছে। তার নাম হল YourMarket ingSales (YourMarke tingSales. com.au)।তাছাড়া বিভিন্ন ছোটখাট কাজ তো করতেই হয়।
আমি আমার অস্ট্রোলিয় ান পার্টনারের কাছ থেকে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অফার পেয়েছি। কিন্তু আমি সেখানে যেতে চাই না। আমি আমার দেশকে অনেক অনেক ভালবাসি। এদেশের আবহাওয়া, সুযোগ-সুবি ধায় বড় হয়ে আমি বাইরে চলে গিয়ে নিজেকে বেঈমান প্রমাণিত করতে চাই না। আমি আমার দেশকে অনেক উচুতে নিয়ে যাবো। আমি রাসেলআহমেদ, আমিই বাংলাদেশ।
অনেক কাজ হওয়ার কারনে আমি, আমার অন্যান্য পার্টনার মিলে তৈরি করেছি DesinigngW ay নামে একটি কোম্পানী। আমরা প্রায় 78-80 জন এখানে কর্মরত। এখানে ফিলিপাইন, কানাডা, আমেরিকাসহি বিভিন্ন দেশের ওয়ার্কাররা কাজ করে। আমাদের এই কোম্পানীর গত মাসের ইনকাম প্রায় 50 লক্ষ টাকা। আমাদেরপরবর্তী ছয় মাসের টাগেট প্রতি মাসে 1 কোটি টাকা আয় করা।
পোষ্টটি পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে এখানে